ভ্রমন বাংলাদেশঃ শরীয়তপুর জেলা(প্রজন্মের ভ্রমন বাংলাদেশ সিরিজের একটা অংশ ।)

বহুদিন ধরে এটা নিয়ে লিখব লিখব করেও লেখা হচ্ছিল না । আসলে ছবি গুলো আনএক্সপেক্টেড ভাবে হারিয়ে যাওয়ার ফলে খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম।। যাক এখন আসল কথায় আসি।আমার জন্মস্থান এর কথা ।

শরীয়তপুর সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ
১। ইতিহাসঃ ইতিহাস সমৃদ্ধ বিক্রমপুরের দক্ষিণাঞ্চল এবং প্রাচীন বরিশালের ইদিলপুর পরগণার কিছু অংশ নিয়ে বর্তমান শরীয়তপুর জেলা গঠিত। বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামে শরীয়তপুরবাসীর ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জেলাটি ফরিদপুরের মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৯৭৭ সালের ৩ নভেম্বর বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামানুসারে শরীয়তপুর  নামকরণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে শরীয়তপুর জেলায় উন্নীত হয়।^১

২।ভৌগলিক অবস্থানঃ শরিয়তপুর জেলার উত্তরে মুন্সীগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে বরিশাল জেলা ও ঝিনাইদহ জেলা, পুর্বে চাঁদপুর জেলা এবং পশ্চিমে মাদারীপুর জেলা।^২

৩।প্রশাসনিক এলাকাসমুহঃ শরিয়তপুর জেলা ৭টি উপজেলা, ৫টি মিউনিসিপ্যালিটি, ৬৪টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৫টি ওয়ার্ড, ৯৩টি মহল্লা, ১২৩০টি গ্রাম এবং ৬০৭টি মৌজা নিয়ে গঠিত।
এই জেলা ছয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এগুলো হল,
জাজিরা উপজেলা
শরিয়তপুর সদর উপজেলা
গোসাইরহাট উপজেলা
ডামুড্যা উপজেলা
ভেদরগঞ্জ উপজেলা
নড়িয়া উপজেলা
সখীপুর উপজেলা^২

ঢাকা হতে যাতায়াত পদ্ধতিঃ
ঢাকা হতে শরীয়তপুর জেলায় দুইভাবে যাওয়া যায়ঃ
১। সায়াদাবাদ বাসস্টান্ড হতে।
২। গুলিস্তান হতে।
আপনাকে প্রথমে গুলিস্তান অথবা সায়াদাবাদ পৌছাতে হবে। এরপর মাওয়া ঘাট এর বাস এ উঠতে হবে। অনেক পরিবহন পাবেনঃ বি আর টী সি, ইলিশ, গ্রেট বিক্রমপুর,আনন্দ ইত্যাদি। এরপর আপনাকে লঞ্চে অথবা স্পীডবোটে পদ্মা পার হতে হবে। মংগল মাঝির ঘাটের লঞ্চ অথবা স্পীডবোট দিয়ে যাবেন।মঙ্গল মাঝি ঘাটে পৌছানোর পর শরীয়তপুর এর বাস,মোটরসাইকেল এবং টেম্পু পাবেন।

দর্শনীয় স্থানঃ

মগরঃ প্রখ্যাত কবি ও গীতিকার অতুল প্রসাদ সেনের জন্মস্থান। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি তাঁর
গভীর শ্রদ্ধা । তাঁর রচিত অমর গান ‘‘মোদের গরব মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা’’^১

মহিষারের দীঘিঃ দক্ষিণ বিক্রমপুরের এককালীন প্রখ্যাত স্থান। চাঁদ রায়, কেদার রায়ের নির্দেশে এখানে পানীয় জলের জন্য কয়েকটি দীঘি খনন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ হতে এখানে এক সপ্তাহের জন্য মেলা হয়। দিগম্বরী সন্ন্যাসীর মন্দিরও এখানে রয়েছে। সুপ্রসিদ্ধ নৈয়ায়িক গঙ্গাচরণ ন্যায় রত্নের বাসস্থান। লোকমুখে শুনা যায় এই দিঘী থেকে নাকি দরিদ্রদের বিয়ের সময় দিঘীর কাছে চাইলে থালা বাসন এবং খাবার জিনিস আসত । কিন্তু একবার জণৈক মহিলা একটা প্লেট রেখে দেয়ার পর এখন আর আসে না।

রাজনগরঃ বৈদ্য প্রধান স্থান। ফরিদপুরের ইতিহাস লেখক আনন্দ চন্দ্র রায়, ঢাকার ইতিহাস লেখক যতীন্দ্র নাথ রায় ও ঢাকার বিশিষ্ট উকিল গুপ্ত এর জন্মস্থান। এখানকার অভয়া ও শিবলিঙ্গ বিখ্যাত।

কুরাশিঃ রাজা রাজবল্ল¬ভের বংশধরগণের কেউ কেউ এখানে বাস করতেন বলে জানা যায়। বেশ কয়েকটি মন্দির ও শিবলিঙ্গ মূর্তি এখানে রয়েছে।

বুড়ির হাটের মসজিদঃ জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার বুড়ির হাট মসজিদটি খুবই বিখ্যাত এবং ইসলামী স্থাপত্যকলার নিদর্শন।
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ ঢাকা থেকে মাওয়া আসার পর লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার বা ফেরী যোগে নদী পারাপার হয়ে মাঝির ঘাট। মাঝির ঘাট থেকে বাস যোগে সরাসরি শরীয়তপুর সদর হয়ে বুড়ির হাট মসজিদ।
সম্ভাব্য খরচঃ২০০(দুইশত)টাকা।
আবাসন ব্যবস্থাঃ শরীয়তপুর সদর ব্যতীত বুড়ির হাট থাকার কোন সু-ব্যবস্থা নেই।
http://www.dcshariatpur.gov.bd/images/stories/burirhat.jpg

হাটুরিয়া জমিদার বাড়িঃ
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ ঢাকা থেকে মাওয়া আসার পর লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার বা ফেরী যোগে নদী পারাপার হয়ে মাঝির ঘাট। মাঝির ঘাট থেকে বাস যোগে সরাসরি শরীয়তপুর সদর হয়ে গোসাইরহাট উপজেলার হাটুরিয়া জমিদার বাড়িতে যাওয়া যাবে।
সম্ভাব্য খরচঃ ২৫০ (দুইশত পঞ্চাশ) টাকা।
আবাসন ব্যবস্থাঃ গোসাইরহাট উপজেলায় থাকা খাওয়ার কোন সু-ব্যবস্থা আছে।
http://www.dcshariatpur.gov.bd/images/stories/haturia.jpg

রুদ্রকর মঠঃ দেড়শত বছরের পুরনো এই মঠটি শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নে অবস্থিত। এই মঠটি দেখার জন্য বহু লোক আসে।
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ ঢাকা থেকে মাওয়া আসার পর লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার বা ফেরী যোগে নদী পারাপার হয়ে মাঝির ঘাট। মাঝির ঘাট থেকে বাস যোগে সরাসরি শরীয়তপুর সদর বাসস্টান্ড থেকে মনোহর বাজার দিয়ে বালার বাজার নেমে রুদ্রকর মঠ যাওয়া যাবে।
সম্ভাব্য খরচঃ ২০০ (দুইশত) টাকা আবাসন ব্যবস্থাঃ শরীয়তপুর সদর উপজেলায় থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা আছে।
http://www.dcshariatpur.gov.bd/images/stories/Rudrakorer.jpg

রাম সাধুর আশ্রমঃ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নে অবস্থিত। এখানে শত বছরের পুরানো এই আশ্রমটি এই ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নই গোলক চন্দ্র সার্বভৌম ও শ্রীযুক্ত কালি কিশোর স্মৃতি রত্ন মহাশয়ের বাসস্থান। প্রতি বছর শীতের শেষে এই আশ্রমকে কেন্দ্র করে তিন দিনের মেলা বসে। এ ছাড়াও ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের কার্তিকপুরের জমিদার বাড়ি বিখ্যাত।
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ ঢাকা থেকে মাওয়া আসার পর লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার বা ফেরী যোগে নদী পারাপার হয়ে মাঝির ঘাট। মাঝির ঘাট থেকে বাস যোগে সরাসরি নড়িয়া উপজেলার হয়ে ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের রামসাধুর আশ্রমে যাওয়া যাবে।
সম্ভাব্য খরচঃ ২২০ (দুইশত বিশ) টাকা
আবাসন ব্যবস্থাঃ নড়িয়া উপজেলা ও রামসাধুর আশ্রমে থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা আছে।
http://www.dcshariatpur.gov.bd/images/stories/ramsadur.jpg

জমিদার বাড়ীঃ শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ছয়গাঁও ইউনিয়নে জমিদার বাড়ী অবস্থিত।
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ ঢাকা থেকে মাওয়া আসার পর লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার বা ফেরী যোগে নদী পারাপার হয়ে মাঝির ঘাট। মাঝির ঘাট থেকে বাস যোগে সরাসরি ভেদরগঞ্জ উপজেলা হয়ে ছয়গাঁও ইউনিয়নের জমিদার বাড়ীতে যাওয়া যাবে।
সম্ভাব্য খরচঃ ২৫০ (দুইশত পঞ্চাশ) টাকা
আবাসন ব্যবস্থাঃ ভেদরগঞ্জ উপজেলায় থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা আছে।
http://www.dcshariatpur.gov.bd/images/stories/parjatan.jpg

মানসিংহের বাড়ীঃ নড়িয়া উপজেলায় ফতেজংগপুর ঐতিহাসিক মানসিংহের দুর্গের ভগ্নাবশেষ রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ ঢাকা থেকে মাওয়া আসার পর লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার বা ফেরী যোগে নদী পারাপার হয়ে মাঝির ঘাট। মাঝির ঘাট থেকে বাস যোগে সরাসরি নড়িয়া উপজেলার হয়ে ফতেজংগপুর ইউনিয়নের মানসিংহের দুর্গের ভগ্নাবশেষ এর স্থানে পৌছানো যাবে।
সম্ভাব্য খরচঃ ২৫০ (দুইশত পঞ্চাশ) টাকা
আবাসন ব্যবস্থাঃ নড়িয়া উপজেলায় থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা আছে।
http://www.dcshariatpur.gov.bd/images/stories/mansingh.jpg

শিবলিঙ্গঃ উপমহাদেশের শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নে কষ্ঠিপাথরের সর্ববৃহৎ শিবলিঙ্গটি পাওয়া গেছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ ঢাকা থেকে মাওয়া আসার পর লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার বা ফেরী যোগে নদী পারাপার হয়ে মাঝির ঘাট। মাঝির ঘাট থেকে বাস যোগে সরাসরি নড়িয়া উপজেলার  ভোজেশ্বর এর শিবলিঙ্গের কাছে পৌছানো যাবে।
সম্ভাব্য খরচঃ ২০০ (দুইশত) টাকা
আবাসন ব্যবস্থাঃ নড়িয়া উপজেলায় থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা আছে।
http://www.dcshariatpur.gov.bd/images/stories/sib.jpg

সুরেশ্বর দরবার শরীফঃ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বরে মাওলানা জান শরীফের মাজার অবস্থিত। এখানে প্রতি বছর শীতের শেষে তিন দিনের ওরশ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং বহু ভক্তের সমাগম হয়।
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ ঢাকা থেকে মাওয়া আসার পর লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার বা ফেরী যোগে নদী পারাপার হয়ে মাঝির ঘাট। মাঝির ঘাট থেকে বাস যোগে সরাসরি নড়িয়া উপজেলায় পৌছানোর পর ট্যাম্পু বা বেবী যোগে সুরেশ্বর দরবার শরীফ এ পৌছানো যাবে অথবা ঢাকার সদর ঘাট হতে লঞ্চ যোগে সরাসরি সুরেশ্বর লঞ্চ ঘাটে নামার পর রিক্সা যোগে দরবার শরীফ এ যাওয়া যাবে।
সম্ভাব্য খরচঃ ২০০ (দুইশত) টাকা, নদী পথে ১০০ (একশত) টাকা।
আবাসন ব্যবস্থাঃ নড়িয়া উপজেলাসহ উক্ত দরবার শরীফে থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা আছে।
http://www.dcshariatpur.gov.bd/images/stories/surasor.jpg

পন্ডিতসারঃ এই স্থানে শ্যামপুরি হুজুরের মাজার শরীফ অবস্থিত। পৃথিবীর বহুস্থান থেকে এখানে লোক সমাগম হয়ে থাকে। প্রতি বছর ১১ পৌষ হতে তিন দিনের ওরস হয়। এ ছাড়া  পহেলা জ্যৈষ্ঠ তারিখে হযরত শাহ্ সূফি সৈয়দ গোলাম মাওলা হোসায়নী চিশতী শ্যামপুরী (র:) বা শ্যামপুরী হুজুর এর আবির্ভাব দিবস হিসেবে রোজে মোকাদ্দাস দিবস হিসাবে পালিত হয়।এছাড়াও এখানে ১০০ বছরের ও বেশি পুরোনো পন্ডিতসার উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ ঢাকা থেকে মাওয়া আসার পর লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার বা ফেরী যোগে নদী পারাপার হয়ে মাঝির ঘাট। মাঝির ঘাট থেকে বাস যোগে সরাসরি নড়িয়া উপজেলায় পৌছানোর পর ট্যাম্পু বা বেবী যোগে পন্ডিতসার মাজার শরীফ এ পৌছানো যাবে অথবা ঢাকার সদর ঘাট হতে লঞ্চ যোগে সরাসরি সুরেশ্বর লঞ্চ ঘাটে নামার পর ট্যাম্পু যোগে পন্ডিতসার মাজার শরীফ এ যাওয়া যাবে।
সম্ভাব্য খরচঃ ২৪০ (দুইশত চল্লিশ) টাকা, নদী পথে ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) টাকা।
আবাসন ব্যবস্থাঃ নড়িয়া উপজেলাসহ উক্ত মাজার শরীফে থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা আছে।
http://www.dcshariatpur.gov.bd/images/stories/ponditsar.jpg

ধানুকার মনসা বাড়িঃ চন্দ্রমনি ন্যায়, ভুবন হরচন্দ্র চুড়ামনি ও মহোপাধ্যায়, শ্রীযুক্ত বামাচরণ ন্যায় প্রভৃতির জন্মস্থান ধানুকায়। এখানকার শ্যামমূর্তি জাগ্রত দেবতা বলে কিংবদন্তী রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ ঢাকা থেকে মাওয়া আসার পর লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার বা ফেরী যোগে নদী পারাপার হয়ে মাঝির ঘাট। মাঝির ঘাট থেকে বাস যোগে সরাসরি শরীয়তপুর সদর উপজেলায় আসার পর রিক্সা যোগে ধানুকা মনসা বাড়ি যাওয়ার সু-ব্যবস্থা আছে।
সম্ভাব্য খরচঃ ১৮০ (একশত আশি) টাকা।
আবাসন ব্যবস্থাঃ শরীয়তপুর সদর উপজেলায় থাকা ও খাওয়ার সু-ব্যবস্থা আছে।
http://www.dcshariatpur.gov.bd/images/stories/danuka.jpg

সুত্রঃ ১। শরীয়তপুর জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
২। শরীয়তপুর জেলার উইকিপিডিয়া পেজ ।

বিঃদ্রঃ পুর্বে প্রজন্ম ফোরামে প্রকাশিত

অ্যামবিগ্রাম’ নিয়ে কিছু কথা ও কিছু এম্বিগ্রাম

অ্যামবিগ্রাম কি ?
অ্যামবিগ্রাম (কখনও কখনও ইনভারশন নামেও পরিচিত হয়) এক ধরনের গ্রাফিক্যাল চিত্র বা লেখা যা একটি শব্দকে শুধুমাত্র এক দিক থেকে বানান করেনা বরং অন্য আরেকটি দিক বা অরিয়েন্টেশন থেকেও একইভাবে বানান করতে পারে। অথ্যাৎ যে শব্দ বা বাক্যকে একদিক থেকে পড়লে যেমন দেখায় উল্টা দিক থেকেও একই রকম দেখায় তাকে অ্যামবিগ্রাম বলে।

ambigram শব্দের একটি ঘূর্ণনশীল প্রতিসম অ্যামবিগ্রাম।

উৎপত্তিঃ
ইংরেজি ambigram শব্দটি দুটি ল্যাটিন শব্দ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। ambi শব্দের অর্থ উভয় এবং gram শব্দের অর্থ বর্ণ। দুটি মিলিয়ে দাড়াচ্ছে উভয় বর্ণ। অর্থাৎ একই শব্দ যদি দুই দিক থেকে একইভাবে পড়া যায় তবে তা-ই অ্যামবিগ্রাম। ১৯৮৩-১৯৮৪ সালের দিকে ডগলাস আর. হফস্টাটার সর্বপ্রথম অ্যামবিগ্রাম শব্দটি এভাবে প্রকাশ করেন। তিনা বন্ধুদের সাথে বোস্টনে প্রায়ই আড্ডা দিতেন। এই আড্ডা থেকেই কোন এক সময় শব্দটি উঠে আসে। কৃতজ্ঞতা স্বীকারকল্পে হফস্টাটার যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তারা হলেন; গ্রেগ হুবার, ডন বায়ার্ড, হেনরি লিবার্ম, বার্নি গ্রিনবার্গ ইত্যাদি ইত্যাদি। এরা সবাই তাঁর বন্ধুবান্ধব।( সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)

অ্যামবিগ্রামের ধরণঃ
অ্যামবিগ্রামগুলোকে সাধারণ নিচের বিষয়শ্রেণীগুলোর যেকোন একটিতে বিভক্ত করা যায়:

১। ঘূর্ণনশীল:
এমন ধরনের নকশা যার ফলে কোন একটি শব্দকে অনুভূমিক দিক থেকে পড়ার পর একটি নির্দিষ্ট কোণে ঘুরালেও একইভাবে পড়া যাবে। এই কোণটি সাধারণ ১৮০°, অবশ্য অন্যান্য কোণবিশিষ্ট ঘূর্ণনশীল অ্যামবিগ্রামও রয়েছে; যেমন: ৪৫° এবং ৯০°। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট ঘোরানোর পর শব্দটি একই থাকে; কিন্তু মাঝেমাঝে শব্দের খানিক পরিবর্তন হতে পারে। এর একটি উত্তম উদাহরণ হচ্ছে: down শব্দের সংক্ষিপ্ত রুপ dn যাকে ১৮০° কোণে ঘুরালে পড়া যায় up.

চিত্রঃ ঘুর্ননশীল এম্বিগ্রাম।(Vegas)

২।দর্পণ:
এমন শব্দ যাকে কোন দর্পণের সামনে ধরে প্রতিবিম্ব করলেও একই বা সামান্য বিকৃতভাবে হলেও পড়া যায়। যে অ্যামবিগ্রামগুলোকে দর্পণ প্রতিবিম্ব করলে ভিন্ন শব্দের জন্ম দেয় তাদেরকে ‘গ্লাস ডোর অ্যামবিগ্রাম বলা হয়। কারণ এই অ্যামবিগ্রামগুলোকে কাঁচের দরজায় এমনভাবে ছাপানো সম্ভব যাতে ঢোকা এবং বেরনোর সময় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে চোখে পড়ে।

চিত্রঃ দর্পন এম্বিগ্রাম(wiki)

ফিগার-গ্রাউন্ড:
এটি এমন নকশা যাতে এক শব্দের বর্ণগুলোর মধ্যবর্তী শূন্যস্থানের থেকে অন্য শব্দের বর্ণগুলোর মধ্যে শূন্যস্থান বেশী থাকে।

চিত্রঃ ফিগার গ্রাউন্ড এম্বিগ্রাম (thin)

শিকল:
এক্ষেত্রে একটি শব্দ বা অনেকগুলো শব্দ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি পৌনঃপুনিক শিকলের সৃষ্টি করে। একটি বর্ণ অন্যটির উপর পতিত হয় যার অর্থ দাড়ায় ককটি বর্ণ শেষ হওয়ার আগেই অন্য একটি বর্ণ শুরু হয়ে যায়। অনেকসময় এ ধরনের অ্যামবিগ্রামগুলো বৃত্তের আকৃতিতে উপস্থাপিত হয়।

চিত্রঃ শিকল এম্বিগ্রাম (sun)- সান মাইক্রোসিস্টেম এর লোগো

স্পেস-ফিলিং:
অনেকটি শিকল অ্যামবিগ্রামের মতই, তবে এক্ষেত্রে যে দ্বিমাত্রিক ক্ষেত্রে অ্যামবিগ্রামটি আঁকা হয় তার পুরো স্থান জুড়ে টালিকৃত বর্ণগুলো অবস্থান করে।

চিত্রঃ স্পেস ফিলিং এম্বিগ্রাম(orientation)

পৌনঃপুনিক জ্যামিতিক গঠন:
একে ফ্র‌্যাক্টাল অ্যামবিগ্রামও বলা হয়। এক ধরনের স্পেস-ফিলিং অ্যামবিগ্রাম যাতে টালিকৃত শব্দগুলো নিজেদের মধ্য থেকেই শাখা তৈরি করে এবং এরপর নিজেএর মতই আরেকটি রুপে পরিণত হয়। এর ফলে একটি ফ্র‌্যাক্টাল গঠিত হয়। স্কট কিম এ ধরনের অ্যামবিগ্রাম তৈরি করেছেন। তিনি TREE শব্দের একটি অ্যামবিগ্রাম করেছেন।

চিত্রঃ ফ্রাক্টাল এম্বিগ্রাম (tree)

ত্রিমাত্রিক:
একটি ত্রিমাত্রিক নকশা হিসেবে উপস্থাপন করা হয় যার বিভিন্ন কোণ থেকে দেখলে বিভিন্ন বর্ণ বা শব্দ পড়া যায়। constructive solid geometry ব্যবহার করে এ ধরনের অ্যামবিগ্রাম আঁকা যায়।

চিত্রঃ ত্রিমাত্রিক এম্বিগ্রাম (A,B,C)

পারসেপচুয়াল শিফ্‌ট:
এ ধরনের নকশায় কোন প্রতিসাম্য থাকেনা। কিন্তু একই শব্দকে দুটি ভিন্ন শব্দরুপে পড়া যায়। এই পড়ার বিষয়টি নির্ভর করে বর্ণের বিভিন্ন বক্ররেখাগুলো কিভাবে আঁকা হয়েছে তার উপর।

চিত্রঃ পারসেপচুয়াল শিফ্‌ট এম্বিগ্রাম(wave-particle) [বিঃদ্রঃ এইটা বুঝতে আমার কষ্ট হইছে ]  :-S

প্রাকৃতিক :
এমন ধরনের শব্দ বা বাক্য যা স্বাভাবিকভাবে লিখলেই উপরের যেকোন ধরনের অ্যামবিগ্রামের মত হতে পারে। এক্ষেত্রে কোন আলাদা নকশার প্রয়োজন নেই। উদাহরণস্বরুপ dollop এবং suns শব্দ দুটি এক ধরনের প্রাকৃতিক ঘূর্ণনশীল অ্যামবিগ্রাম। bud শব্দটিকে উলম্ব অক্ষের সাপেক্ষে দর্পণ প্রতিবিম্ব করলে একই রকম দেখায়। অতএব এটি প্রাকৃতিক দর্পণ প্রতিবিম্ব অ্যামবিগ্রাম। CHOICE শব্দটিকে বড় হাতের অক্ষরে লিখলে অনুভূমিক অক্ষের সাপেক্ষে একটি দর্পণ প্রতিবিম্ব অ্যামবিগ্রামে পরিণত করা যায়। TOOTH শব্দটিও দর্পণ প্রতিবিম্ব অ্যামবিগ্রাম। তবে এক্ষেত্রে উলম্ব অক্ষের সাপেক্ষে দর্পণ প্রতিবিম্ব করার আগে বর্ণগুলোকে সঠিকভাবে বিন্যস্ত করতে হবে।

চিত্রঃ প্রাকৃতিক এম্বিগ্রাম।
সুত্রঃ উইকিপিডিয়া ।

[u][b]অ্যামবিগ্রামের উদাহরণ:[/b][/u]
গ্রাফিক শিল্পীরা তাদের অনন্য প্রতিসাম্য প্রদর্শনের জন্য অ্যামবিগ্রাম ব্যবহার করে থাকে। এ কারণে লোগে, বইয়ের প্রচ্ছদ, গানের অ্যালবাম এবং বিভিন্ন ট্যাটুর নকশায় অ্যামবিগ্রাম থাকতে দেখা যায়।
অ্যামবিগ্রামের সবচেয়ে সুস্পষ্ট প্রতীকায়ন ঘটেছে মার্কিন ঔপন্যাসিক ড্যান ব্রাউন রচিত অ্যাঞ্জেল্‌স অ্যান্ড ডেমন্‌স নামক রোমাঞ্চকর উপন্যাসে। আমিও ওইখান থেকেই এগুলাই চিনি। এর প্রথম ব্রিটিশ মুদ্রণের প্রচ্ছদে বইয়ের নামটি অ্যামবিগ্রাম হিসেবে লেখা হয়েছে। এই বইয়ের জন্য অ্যামবিগ্রামগুলো এঁকে দিয়েছেন গ্রাফিক শিল্পী জন ল্যাংডন।সম্প্রতি জন ল্যাংডনের অ্যামবিগ্রাম বিষয়ক বই ওয়ার্ডপ্লে-এর পুনর্মুদ্রণেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।।
যে সমস্ত বইয়ে এম্বিগ্রাম ব্যাবহার করা হয়েছে,
১।Abarat, বইটির প্রচ্ছদে অঙ্কিত অ্যামবিগ্রাম রয়েছে। বইটির লেখক ক্লাইভ বার্কার
২।Angels and Demons, ড্যান ব্রাউন লিখিত বইটিতে ইলুমিনেটি নামক গুপ্ত সংগঠনের লোগো হিসেবে অ্যামবিগ্রাম ব্যবহৃত হয়েছে।
৩।Gödel, Escher, Bach, ডগলাস আর. হফস্টাটার লিখিত এই বইটিতে GEB-এই তিনটি বর্ণ দিয়ে ত্রিমাত্রিক অ্যামবিগ্রাম আঁকা রয়েছে।
৪।Justin Thyme বইয়ের প্রচ্ছদে। লেখক – পানামা অক্সরিজ
৫।Wordplay, জন ল্যাংডন লিখিত এই বইয়ে স্বয়ং লেখকের নামও অ্যামবিগ্রাম হিসেবে লেখা হয়েছে।
এছাড়াও অনেক সঙ্গীত ব্যান্ড এর লোগো এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের লোগো তে এম্বিগ্রাম ব্যাবহার হচ্ছে ।

[u][b]আমার বন্ধু রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান ( শখের এম্বিগ্রামিস্ট) এর করা কিছু এম্বিগ্রাম ( কাগজ এবং কলমের সাহায্যে করা ):[/b][/u]
এক বন্ধুর বাসায় স্ক্যানার ছিল । স্ক্যান করে এডীট করে উপরে লেখাগুলো লাগিয়েছি। আর হ্যা এগুলা কোন জায়গায় শেয়ার করলে লেখক এর নাম বাধ্যতামুলক।নিচের ফ্লিকার লিঙ্কটাতে গেলেই পাবেন ।

http://flic.kr/s/aHsjvRTXxU

পরিশেষে যারা পরেছেন তাদের কাছে লোডিং টাইম এবং বিরক্ত করার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ধন্যবাদ।

বিঃদ্রঃ পুর্বে পোস্ট টি প্রজন্ম ফোরামে প্রকাশ করা হয়েছিল ।

ব্লগ লেখালেখি তে ফিরে আসব আশা করি।

আমার ওয়েবব্লগ ভিউয়াররা আশা করি ভালই আছেন । বহুদিন আগে এই ওয়েবব্লগ টা খুলে ভেবেছিলাম খুলে রেখে দেব। জাস্ট একটা ব্লগ । হিট বোধ হয় পরবে না । তাই হাতে গোনা  গুটি কয়েক পোস্ট করে রেখে দিয়েছিলাম । কিন্তু এতেই যে এত পরিমান হিট পরবে বুঝতে পারি নাই । তবে হ্যা হিট দেখে মনএস্থির করেছি নিয়মিত ব্লগ লিখব। এখন হতে নিয়মিত এখানে পোস্ট দেখতে পাবেন। ও হ্যা আপনাদের সুবিধার জন্য নতুন একটি সর্ট Url দিয়েছি।

URL: http://ahmadfiroz.tk

ভাল থাকবেন ,ধন্যবাদ।